সুনামগঞ্জ, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২০

সুনামগঞ্জে দু-দফা বন্যায় সড়কের ৫০০শ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

সুনামগঞ্জে দু-দফা বন্যায় সড়কের ৫০০শ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

স্টাফ রিপোর্টার:
গতকাল বিকেল থেকে বৃষ্টি পাত শুরু হওয়ায় আবারও আতংকিত হয়ে পড়েছেন জেলা বাসী। স্থানীয় আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা এ মাসের শেষের দিকে তৃতীয় দফায় আবার ও বন্যা দেখা দিতে পারে। এমনিতেই নদ নদী হাওরে পানিতে টই টুম্বুর। এখনো দ্বিতীয় দফায় বন্যার পানি নামছে না বাসা বাড়ি থেকে। ওপার থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ও ভারি বৃষ্টি পাতের ফলে সৃষ্টদুই দফা বন্যায় জেলার বিভিন্ন সড়ক বিধ্বস্ত হয়ে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শুধু পাকা সড়ক নয়, গ্রামীন মাটির সড়ক ও বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। ফলে এসব সড়কে চলাচলকারী লক্ষ লক্ষ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এসব সড়কের ক্ষয়ক্ষতি টাকার অংকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক জনপথ বিভাগ, এলজিইডি, ও সুনামগঞ্জ পৌরসভা সংশ্লিষ্টরা।
সুনামগঞ্জ এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাহবুব আলম জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় ১১টি উপজেলায় বিভিন্ন সড়কে প্রায় ৯শ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যা টাকার অংকে প্রায় ৪০০কোটি টাকা হবে। তিনি আরো জানান, উল্লেখযোগ্য ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক গুলো হচ্ছে, জামালগঞ্জ-সেলিমগঞ্জ ১০০ মিটার, সুনামগঞ্জ-ছাতক সড়কের কাটাখালির পাশে ২০০মিটার,হাসাউরা মাঠগাও সড়কে ৩০মিটার, সুনামগঞ্জ- নবীনগর, ধারারগাও-মঙ্গলকাটা সড়কে ৪০ মিটার, ধর্ম পাশা মধ্য নগর, কলমাকানদা সড়কে ১০০ মিটার, দোয়ারাবাজার, হকনগর, বাংলাবাজার সড়কে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জাউয়া বাজার, এখনো পানির নিচে প্লাবিত রয়েছে অনেক সড়ক। বন্যার পুরো পুরি নামার পর সড়ক গুলো র ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে ব্রিজ, কালভার্ট এর এপরোচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।অনেক স্থানে ওয়াশ আউট হয়ে ব্রিজ থেকে মাটি সরে গিয়ে একেবারেই যান চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে ভিলেজ প্রোটেকশন ও বাাপক ক্ষতি গ্রস্ত হয়েছে । ফলে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জহিরুল ইসলাম জানান, জেলার ১১ উপজেলার ৫টি সড়ক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। প্রায় ৩০/৩৫ কিলোমিটারের বেশী সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাকার অংকে প্রায় ৩০কোটি টাকার বেশী হবে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো হচ্ছে, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, দোয়ারাবাজার, ছাতক, গোবিন্দগঞ্জ, ছাতক দোয়ারাবাজার সড়ক। বিশ্বম্ভরপুর, কাঁচিরগাতি সড়ক। এসব সড়ক প্রচুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।এ রাস্তা গুলো সাময়িক ভাবে যানচলাচলের জন্য বালি বস্তা, ইটের ছোট্ট খোয়া পাথর ব্যবহার করে যানচলাচল ব্যবস্হা করা হচ্ছে। সুনামগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মীর মোশাররফ হোসেন জানান পৌরসভার ৩০ কিঃমি সড়ক ক্ষতি গ্রস্ত হয়েছে।এই সড়ক গুলো মেরামত করতে ২০/২৫ কোটি টাকার প্রয়োজন। সব গুলো রাস্তা মেরামত করার জন্য আমাদের হাতে প্রকল্প আছে।কিছু কিছু রাস্তার টেন্ডার করা হয়েছে দুই দফা বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় ও করোনা আতংকের কারণে কাজ করা যাচ্ছে না। তবে বন্যা ও বর্ষা মৌসুমের পর পরই এগুলোর কাজ শুরু হবে। আমাদের হাতে আরো নতুন প্রকল্প আছে তাতে আরো ১৫/২০ কোটি টাকা লাগবে। এই টাকা বরাদ্দ পেলে রাস্তা গুলো নাগরিক দের চলাচলে উপযোগী করে পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগ গুলো নিজ নিজ উর্ধতন কতৃপক্ষ বরাবর ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন যত দ্রুত বরাদ্দ আসবে আমরা তত দ্রুত মেরামত ও সংস্কার কাজ শুরু করব। এই সড়ক গুলো ছাড়া ও গ্রামীন অভ্যন্তরীণ মাটির সড়ক গুলো ও অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল আহাদ ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন সড়ক পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট দের তাগিদ দিয়েছেন দ্রুত মেরামত ও সংস্কার করে মানুষের দুর্ভোগ লাগব করতে।

নিউজটি শেয়ার করুন:
© দৈনিক আজকের সুনামগঞ্জ
বাস্তবায়নে : Avo Creatives