সুনামগঞ্জ, শনিবার, ০৬ জুন ২০২০

মানুষ মানুষের জন্য কথায় নয় কাজে এগিয়ে আসুন

মানুষ মানুষের জন্য কথায় নয় কাজে এগিয়ে আসুন

মানুষ মানুষের জন্য প্রাকৃতিক দূর্যোগ মহামারি আপদকালিন সময়ে ফুটে ওঠে মানুষের স্বরূপ চরিত্র। মানুষের সুরত আকৃতি বৈশিষ্ট্যে কতো ব্যবধান,কেউ কালো কেউ সাদা কেউ অনেক খাটো কেউ অনেক লম্বা, মানুষের মাঝে আছে কতো প্রকারভেদ। কেউ শারিরিক গঠন আকৃতিতে সুন্দর পরিপূর্ণ সুস্থ্য মানুষ,কেউ বা জন্মগত প্রতিবন্ধি কারো ঘটনা দূর্ঘটনায় হয়েছে অঙ্গঁহানী। কেউ ভীক্ষাবিত্তির অভিশাপ মাথায় নিয়ে জীবন সংগ্রামে ক্লান্ত, সবই আমরা মানুষ। মানুষের মধ্যেও আছে কতো শ্রণীবেদ,ধন সম্পদ প্রাচুর্য বিত্ত সামর্থে, মান-সম্মান সবার এক রকম হয় না। আমাদের রাষ্ট্র সমাজের ধনী শ্রেণীর উপর তলার মানুষ যারা অনেকই বিভিন্ন বিশেষনে ভুষিত, অনেক সম্মান সুূচক পদ বা টাইটেল তাদের নামের পিছনে শুভাশিত। কেউ জন্ম নিয়েছেন সোনার চামচ মূখে নিয়ে,অনেক শ্রদ্ধেয়জন বিত্ত বৈভবের মালিক উত্তরাধিকার সূত্রে। কিছু ব্যক্তি সম্পদের মালিক হয়েছেন হালাল পথে হাঁড়খাটুনী পরিশ্রমে নিজের চেষ্টা যোগ্যতা কোথায়ও আত্মীয় প্রিয়জনদের সহযোগিতায়। এক শ্রেণীর ধান্ধাবাজ লোক ক্ষমতার সুযোগ অপব্যবহারে দূর্বল দারিদ্র শ্রেণীগোষ্ঠির মানুষের উপর জুলুম নির্যাতন করে তাদের হক তামাদি করে হয়েছেন বিত্তশালী। কেউ অবৈধ ব্যবসা বানিজ্য অসৎ হারামপথে উপার্জন করে নিজেকে করেছেন বিলাসী ক্ষমতাধর স্বঘোষিত সম্মানী। একপর্যায়ে সাধু সেজে রাজনীতির তেলেসমাতিতে হয়েছেন অনেক অনেক প্রভাবশালী,অনেক বিতর্কিত ব্যক্তি আজ এমপি মন্ত্রী। অনেকেই রাষ্ট্র পরিচালনা চাকুরির সুবাদে শিক্ষিতজন ঘুষ দূর্ণীতিতে মহাব্যস্থ,ন্যায় বিচারের নামে করেছেন অবিচার। কেউ উত্তরাধিকার সূত্রে হতদরিদ্র, কেউ ঘটনা দূর্ঘটনায় ব্যবসা বানিজ্যে সহা সম্বল হারিয়ে সৎ পথে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করে জীবন যুদ্ধে পরাজিত। সংসারের বুঝা হয়ে চুরি ছিনতাই ডাকাতির মতো অপরাধে জড়িয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে মানুষের ঘৃণা নিয়ে। তবুও কিছু মানুষ দূর্নাম অপমান নিয়ে বাঁচতে চায় পরিবার প্রিয়জনের জন্য, এই সমাজ রাষ্ট্র কোনদিন জানতে চাইবেনা কেন তারা অপরাধী। কেউ জানতে চায় না একজন মানুষ অভাবে নাকি স্বভাবে করছে ভীক্ষাবিত্তি।
আমরা প্রায়ই দেখি অনেক সমাজপতি বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ শ্রদ্ধেয়জন খেলার মাঠে গানের অনুষ্ঠানে অনেক বড় পুরস্কার দিয়ে থাকেন,পোষ্টার মাইকিংয়ে তাদের নাম উচ্চারিত হয়। বিয়ে সাদী ওয়ালিমা অনেকের জন্মদিনে কারো বিবাহ বার্ষিকীতে নগদ টাকা কিংবা মূল্যবান কোন উপহার সামগ্রী দিয়ে মনের আনন্দে নাচতেও দেখে থাকি। অবাক বিস্ময়ে আমরা লক্ষ্য করি পথ চলতে রাস্তাঘাটে হাটবাজারে অনেক প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক, সামর্থবান শ্রদ্ধেয়জনদের দারস্থ হয়ে বলে ইয়াআল্লাহ তওফিক, তারা দুই চার দশ টাকা শুধু আশা করে হাতপেতে । আমরা কতো অবহেলায় নির্দিধায় বলে দেই আল্লাহর ওয়াস্তে মাফ করো,অনেক জনকে তাদের লাঞ্চিত করতে দেখেছি। আমাদের মনে রাখা উচিত তারাও এই সমাজের অংশ,তাদেরও আছে ভোটের অধিকার এরাও দেশের নাগরিক।
অপ্রয়োজনীয় অনেক টাকা খরচ করেন আপনি মিল কল কারখানা শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক বড়নেতা চেয়ারম্যান মেয়র এমপি মন্ত্রী হয়েছেন, দীর্ঘদিন আপনার পিছনে যে কর্মী সময় ব্যয় করে তার সামর্থ উজাড় করে নিঃস্ব হয়েছে জেল খেটেছে সে যখন কঠিন কোন অসুখে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের বেডে বা মেঝেতে পড়ে থাকে টাকার অভাবে মৃত্যু যন্ত্রনায় বেচে থাকার অবলম্বন হিসেবে আপনার আমার কাছে সামান্য আর্থিক সহযোগিতা কামনা করে। তখন আমরা হয়ে যাই খুবই হিসেবি পকেটে আমাদের হাত ঢুকতে কষ্ট হয়। পাবার বেলাই আমরা অধির, দেবার বেলায় বধির সীমাবদ্ধ,বলি কতো অসুবিধায় আছি।
আজকে পুরো বিশ্ব বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণে থেমে গেছে মানুষের জীবন যাত্রা,বেঁচে থাকার জন্য মানুষ কতো কৌশল অবলম্বন করছে। সমগ্র পৃথিবীতে আজ পিনপতন নীরবতা, সবাই নিজগৃহে বন্দী মানুষ ভূলতে বসেছে তার নিকট প্রতিবেশীকে এর মাঝেও বেঁচে থাকবে কিছু ভালো মানুষ, কিছু মানবতা।
প্রতিটি রাষ্ট্রের সরকার এবং কর্তাব্যক্তিরা নির্ঘুম দিনরাত ব্যস্থ তার নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা নিয়ে,এর মধ্যেও ঘটছে কতো অপ্রিয় ঘটনা প্রিয়জনের বিয়োগ ব্যথা।
এমন দুঃসময় শত বছরেও আসে কি না জানিনা,কিন্তু শত বছরে লক্ষ কোটি মানুষ হয়েছে বিত্তশালী। তাদের জন্য আল্লাহর তরফ থেকে নেওয়া হয় কঠিন কিছু পরীক্ষা।
অবৈধ ভাবে উপার্জিত টাকা জনকল্যাণে কাজে লাগানোর সুযোগ সব সময় হয় না,নিজের কৃত কর্মের জন্য আল্লাহর দরবারে ক্ষমা চাওয়া উচিত । আল্লাহ বলেছেন আমার বান্দা যতই গোনাহ করুক,অনুতপ্ত হয়ে আমার কাছে ক্ষমা চাইলে আমি থাকে মাফ করে দিব। আমাদের গোনাহের চাইতেও আমার আল্লাহর রহমত দয়া অনেক বেশি। সুতরাং সময় এবং সামর্থকে কাজে লাগিয়ে আল্লাহর কাছে কায়মনো বাক্যে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ মাফও করে দিতে পারনে।
আমাদের দেশে অনেক নেতা পাতিনেতা সরকারী কর্মকর্তাদের বাসা তল্লাশি করলে বস্তায় বস্তা কোটি কোটি টাকা পাওয়া যাবে,মৃত্যু কাউকে ছেড়ে যাবে না কারো মৃত্যু স্বাভাবিক অবস্থায় কারো মৃত্যু কোন ঘটনা দূর্ঘটনায় হচ্ছে হবে,মৃত্যু মেনে নিতেই হবে। সুতরাং জীবিত অবস্থায় আল্লাহকে ভয় করি পাপ কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখি,অন্তত আর না পারলেও জীবনে একটি ভালো কাজের দৃষ্টান্ত রেখে যাই। মাইকেল জ্যাকসনের কথা আমাদের সোশীল সমাজ উপরতলার লোকদের জানা থাকার কথা, তার বাড়িতে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রায় ১০০জন ডাক্তার রেখেছিলেন কিন্তু মরণব্যাধী ক্যান্সার থেকে কোন ডাক্তার তাকে বাঁচাতে পারেনি।
অবৈধ পন্থায় সুখ খুঁজে পাওয়া যায়না খুলনার এরশাদ শিকদারের কথা মনে থাকবে অনেকদিন, তার স্বর্ণকমলে সুখ ঠিকেনি। পুলিশ অফিসার এসপির মেয়ে ঐশীর কথা কি মনে পড়েনা ? আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলের কথা বিত্তশালীরা যদি মনে রাখেন,তাহলে অনেকই নিজেকে শোধরে নিবেন। অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের ফল ধেরিতে হলেও অকল্যাণ ডেকে আনে সন্তান হয় বিপথগামী,নয়তো প্রতিবন্ধী।
আমাদের উচিত হলো আল্লাহর কাছে বার বার ক্ষমা চাওয়া, সৎপথে হালাল উপার্জন করে সন্তানদের ভালোমানুষ দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তোলা, সমাজ প্রতিবেশীর জন্য ভালো কিছু করা।
সাম্প্রতিক সময়ে করোনাভাইরাস নামক।
নিজাম উদ্দিন
সাবেক চেয়ারম্যান
খুরমা (উত্তর) ইউনিয়ন পরিষদ, ছাতক।

নিউজটি শেয়ার করুন:
© দৈনিক আজকের সুনামগঞ্জ
বাস্তবায়নে : Avo Creatives