সুনামগঞ্জ, শনিবার, ০৬ জুন ২০২০

হাওর পাড়ে এক নীরব শঙ্কা

হাওর পাড়ে এক নীরব শঙ্কা


উত্তম বণিক

জন্ম গ্রহন করলেই তো মৃত্যু’র সাধ গ্রহণ করতে হবে এই নিয়মটা আমাদের সকল মানবজাতির জন্যেই এক নির্ধারিত বিষয়। সাধারণ মৃত্যু নিয়ে মানুষের মাঝে তেমন কোন কষ্ট জন্ম নেয় না। আর সেই মৃত্যু যতি হয় মানুষের অসচেতনায় তাহলে তা সমাজের জন্য মঙ্গল বয়ে আনে না বরং সবার মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করবে এটাই স্বাভাবিক। যুগ যুগ ধরে কিছু রোগ মহামারীতে আকার ধারন করে তা মানবকূলের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে বহু মানুষের জীবন অকালেই ছিনিয়ে নিয়েছে, তেমনি এক ভাইরাস বর্তমানে ঘোটা বিশ্বকে এক মহামারীরুপে পরিণত করেছে। আর সেটি হল করোনা ভাইরাস যা মানবদেহে প্রবেশ করা মাত্রই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত হ্রাস করে মৃত্যু’র দিকে ধাবিত করে।

“বর্তমান পৃথিবীর প্রায় ১.৫ মিলিয়ন মানুষ এই কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তাঁর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৫,০০০ এর উপরে মানুষ মৃত্যু বরণ করেছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত এই রোগের কোন ওষুধ বের করতে পারে নাই যার কারণে এই মহামারী থেকে রক্ষা হওয়ার পথও কিন্তু কঠিন”

করোনা ভাইরাসের কারনে আজ সারা পৃথিবীর প্রতিটি দেশই তাদের নিজ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করনে হুমকির মুখে… কেউ বা দক্ষ চিকিৎসক দলের অভাবে আবার কেউ বা শক্ত অর্থনীতিরও অভাবে। বিশ্বের সকল দেশেই আজ করোনা ভাইরাসের আক্রমণে নাজেহাল অবস্থা। ইউরোপ আর আমেরিকা’র মত উন্নত দেশগুলুতে সকল ধরণের চিকিৎসার ভাল প্রস্তুতি ও সরঞ্জাম থাকার পরও যেধরনের মহামারী হচ্ছে তা অকল্পনীয়। প্রতিদিন মৃত্যু’র হার যেন বেড়েই চলেছে। এই রকম পরিস্থিতিতে এই করোনা ভাইরাস উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশগুলুতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশী।

“সাধারণত বয়স্ক মানুষদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায়…তাঁরাই আক্রান্ত হচ্ছেন বেশী, বিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী তা আগামী সেপ্টেম্বর মাস নাগাত করোনা ভাইরাসের আক্রমণ চলতেই থাকবে।”

করোনা ভাইরাস কি এটা বলার এখন আর কিছু অপেক্ষা রাখে না। তবে তা থেকে মুক্ত থাকার জন্য কিছু বিশেষ নিয়ম আপনাকে অবশ্যই মেনে চলতে হবে যদি আপনি আপনার পরিবারের সকল সদস্যদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভেবে থাকেন। কারন আপনার একটি ভুলেই আপনার পরিবার আর আপনার আশেপাশের সমাজের অনেক ক্ষতি হওয়ার সম্ববনা থেকেই যায়। এই কিছু বিষয় যদি আপনি সঠিকভাবে মেনে চলেন তাহলে হয়ত আপনার পরিবার আর আশপাশের সকল মানুষদের জন্যই ভাল কিছু বয়ে আনবে। তাই এই বিষয়গুলু সব সময় মেনে চলুন আর অন্যকে চলতে বলুন।

 নির্দিষ্ট সময় পর পর হাত পরিস্কার রাখা
 হাত দিয়ে মুখমণ্ডলে স্পর্শ না করা
 আশপাশ পরিষ্কার পরিছন্ন রাখা
 সামাজিক দূরত্ব বজায় ও ঘনবসতি না করা

আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশে যদি এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে তাহলে তা নিয়ন্ত্রণ করার মত ক্ষমতা আমাদের হাতে থাকবে না। উন্নত দেশে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও সরঞ্জামাদি থাকার পরও তারা কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না… তাই আমাদের সচেতন হওয়া ছাড়া আর অন্য কোন পথ নেই। বর্তমান এই অবস্থায় সরকার জনগণের সচেতনা বৃদ্ধির জন্য যে সকল বিষয় এবং চলাচলের নির্দেশনা দিয়েছেন তা মেনে চলা ছাড়া বিকল্প কোন রাস্তা নেই। তবে দীর্ঘ সময় লক-ডাউন এর মধ্যে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে গরীবদের খাবার ও পানীয় অনেক সমস্যা হচ্ছে বা হবে সেই দিকে সরকারের পাশাপাশি বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসে কাজ করার মত সাহায্য প্রয়োজন।

“কিছুদিন ধরে দেখা যাচ্ছে যে, আমাদের জেলার সবখানেই কিছু সমাজকর্মী নিজ চেষ্টায় গরীব মানুষদের জন্য খাবার সংগ্রহ করে দিচ্ছেন…এটা খুবি প্রশংসার বিষয়”

তবে এই চেষ্টাগুলু দুঃসময় মোকাবিলা করার জন্য সময়ের সাথে সাথে আরও বাড়ানো লাগবে। সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষরা যথাযথ সময়েই এগিয়ে আসবেন গরীবদের এই কঠিন অবস্থান থেকে মুক্ত করার জন্য। নিজ নিজ অবস্থান থেকে তাদেরকে একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তাহলে এই কঠিন পরিস্থিতিতেও সবার মাঝে খাদ্য সমস্যা কিছুটা হলেও কম হবে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে সবাই সুস্থ ও ভাল থাকেন এই কামনা পরম করুণাময়ের কাছে যিনি আমাদের সকলের রক্ষা কর্তা।

লেখক
উত্তম বণিক
satcom.uttam@gmail.com

নিউজটি শেয়ার করুন:
© দৈনিক আজকের সুনামগঞ্জ
বাস্তবায়নে : Avo Creatives