সুনামগঞ্জ, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০

চলতি নদীর বামতীর বন্যা নিয়ন্ত্রন বেড়ী বাঁধের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে

চলতি নদীর বামতীর বন্যা নিয়ন্ত্রন বেড়ী বাঁধের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে

স্টাফ রিপোর্টারঃ
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্ষতিগ্রস্থ অবকাঠামো মেরামত ও সংস্কারের জন্য জাহাঙ্গীরনগর ও সুরমা ইউনিয়নের চলতি নদীর বামতীর উপ-প্রকল্পের ২২ ও ২৩ নং-বাঁধের মাটি ভরাট কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সোমবার সরেজমিন সদর উপজেলার জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের চলতি নদীর বামতীর উপ-প্রকল্পে গেলে ফসলরক্ষা বাধেঁর মাটি ভরাট নির্মাণ কাজ প্রায় ৮০% হয়েছে স্থানীয় কৃষকরা জানান। এদিকে বামতীর উপ-প্রকল্পের পিআইসির সভাপতি কৃষক এরশাদ মিয়া, প্রকল্প নং-২৩, বামতীর উপ-প্রকল্পের পিআইসির সভাপতি পিয়ার আহমদ প্রকল্প নং-২২ পিআইসি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সরকারি নীতি মালার চেয়ে অতিরিক্ত প্রায় দেড়-দুই ফুট উচু হয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধটি। সরকার ২২ ও ২৩ নং-পিআইসির যে বরাদ্দ দিয়েছেন কাজের তুলনায় অনেক কম। অতিরিক্ত কাজের জন্য বরাদ্দের চেয়ে আরো ৫/৬ লক্ষ টাকা বেশি লাগতে পারে বলে স্থানীয়রা জানান। অনেক দূর থেকে মাটি এনে বাঁধ নির্মাণ কাজ চলছে। সুরমার উত্তরপাড়ের হাজার হাজার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার সাধারণ লোকজনের চলাচল এবং তিন ফসলি জমির ভবিষৎ চিন্তা করে স্থগিত হওয়া বাঁধগুলো জাতীয় পাটির নেতা পিআইসির সভাপতি এরশাদ মিয়া অনেক চেষ্ঠা করে জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে পূনরায় নির্মাণ কাজের অনুমতি পেয়েছেন। কাজ শুরু হয়ে শেষ পর্যায়ে যাওয়ার মহুর্তে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র আরালে থেকে অপরিচিত লোক দিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ দিয়ে উন্নয়নে বাঁধার সৃষ্টি করছে। বাধেঁ মাটি ফেলে সঙ্গে সঙ্গেঁই দরমুজ সহ ড্রেসিং করা হচ্ছে। খাইয়েরগাও হতে সৈয়দপুর-অক্ষয়নগর পর্যন্ত যে বাঁধটি হচ্ছে সেখানে রয়েছে তিন ফসলী জমি। বন্যার শুরুতেই চলতি নদীর বামতীর বাঁধ দিয়ে পাহাড়ি ঢল অতিক্রম করে ছোট-বড় প্রায় ৮/১০ টি হাওরের ফসল তলিয়ে যায়। ২০০৪ সালে যে অকাল বন্যা হয়েছিল তখনও প্রায় ৫ ফুট পানি ছিল বাঁধে। এ বছর সরকার যে পরিকল্পনা নিয়ে হাওর রক্ষার জন্য বাধ নির্মাণ করছেন ভবিষৎ সেটি বিশ^রোড হবে বলে মনে করেন এলাকাবাসী। বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউপি-চেয়ারম্যান,আওয়ামীলীগ সভাপতি মো মোকসেদ আলী জানান, আমাদের দুইটি ইউনিয়নের কয়েক লক্ষ মানুষ এই বাঁধ দিয়ে চলাফেরা করে আসছেন। এই রাস্তাটি সমপন্ন হলে আমাদের দীর্ঘ দিনের সপ্ন পূরণ হবে। আমি প্রতিদিন এসে নির্মাণ কাজের তদারকি করছি। এই বাধটি নির্মাণ করার ফলে শুধু কৃষকদের উপকারেই নয়, সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। এ ব্যাপারে পিআইসি এরশাদ মিয়া জানান, প্রয়াত নেতা মরহম আব্দুস সামাদ আজাদ মহোদয়ের আমলে আমাদের খাইয়েরগাও হতে সৈয়দপুর পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধ করেছিলেন। ২২ ও ২৩ নং-বাঁধ নির্মাণ কাজ সমপন্ন হলে ফসল এবং ঘরবাড়ি দুটিওই রক্ষা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (এসও) আফরাফুল সিদ্দিকীর মুঠোফোনে আলাপকালে প্রায় ৮০% কাজ হয়েছে। আশা করছি আগামী সপ্তাহের মধ্যেই কাজ সমপন্ন হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন
© দৈনিক আজকের সুনামগঞ্জ
বাস্তবায়নে : Avo Creatives