সুনামগঞ্জ, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০

‘করোনা’র ভয়, সিলেটে সতর্কতা

‘করোনা’র ভয়, সিলেটে সতর্কতা

সিলেট অফিসঃ
২০১৯-এনসিওভি। এটি করোনাভাইরাসের আরেক নাম। ভয়ঙ্কর এই ভাইরাস এখন দুনিয়ায় আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। আতঙ্কিত বাংলাদেশের মানুষও। এই ভাইরাসের ভয়াবহতা বিবেচনায় সিলেটে নেওয়া হয়েছে আগাম সতর্কতা। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চালু করা হয়েছে ‘আইসোলেশন ইউনিট’। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং তামাবিল স্থলবন্দরে গ্রহণ করা হয়েছে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। চীনের উহান প্রদেশ থেকে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। এই সংক্রামক ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। ইতিমধ্যে চীনে শতাধিক মানুষ মারা গেছেন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে প্রথমে জ্বর আসে। এরপর শুকনো কাশি হয়, সপ্তাহখানেকের মধ্যে শুরু হয় শ্বাসকষ্ট। এই ভাইরাস মানুষকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত করে। ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়তে পড়তে অনেকেই মারা যান। ফলে এটি ভয়ঙ্কর রূপে আবির্ভূত হয়েছে। জানা গেছে, করোনাভাইরাস ঠেকাতে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদফতর বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনায় সিলেটেও নেওয়া হয়েছে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। জানা গেছে, করোনাভাইরাস যেভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, এই বিষয়টি বিবেচনা করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ‘আইসোলেশন ইউনিট’ চালু করা হয়েছে। ভাইরাস তথা সংক্রামক রোগে আক্রান্তদের এই ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হয়। দেশে কিছুদিন আগে ডেঙ্গুজ্বর মহামারি রূপ ধারণ করেছিল। তখন ওসমানী হাসপাতালে একটি বিশেষ ইউনিট বা কর্ণার চালু করা হয়। বর্তমানে ডেঙ্গুর প্রকোপ না থাকায় ওই ইউনিটকে এখন আইসোলেশন ইউনিটে রূপ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায়। তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা বিবেচনা করে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে ৫টি বেডের আইসোলেশন ইউনিট চালুর নির্দেশনা ছিল। তবে আমরা ৮ বেডের ইউনিট চালু করেছি। এখানে ওষুধসহ চিকিৎসার সব সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, আইসোলেশন ইউনিটে প্রয়োজনীয় ওষুধের পাশাপাশি অক্সিজেন, মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, অ্যাপ্রোন, টুপি প্রভৃতি উপকরণও রাখা হয়েছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে কিংবা কারো মধ্যে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ দেখা গেলে তাকে হাসপাতালে এ ইউনিটে ভর্তি রাখা হবে। এদিকে, করোনাভাইরাস ঠেকাতে ওসমানী হাসপাতালে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটিও গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায়। তিনি বলেন, ‘৭ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিকে হাসপাতালের পরিচালক, উপ-পরিচালকসহ অন্যান্য সাপোর্ট দেবেন। জানা গেছে, কমিটিতে অধ্যাপক ডা. শিশির চক্রবর্তীর নেতৃত্বে অধ্যাপক ডা. শফিকুল বারী, সহকারী অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক প্রমুখ রয়েছেন। এছাড়া হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ও নার্সিং মেট্রনও আছেন কমিটিতে। এদিকে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সরাসরি দেশের বাইরে থেকে যেসব ফ্লাইট এ বিমানবন্দরে আসছে, সেসব ফ্লাইটের যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ কাজে সিলেট সিভির সার্জন কার্যালয় সহযোগিতা করছে। তবে বিমানবন্দরের থার্মাল স্ক্যানার (জ্বর পরিমাপক যন্ত্র) দীর্ঘদিন ধরে বিকল রয়েছে বলে জানা গেছে। ওসমানী বিমাবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদ সিলেটভিউকে বলেন, ‘করোনাভাইরাস নিয়ে সতকর্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সহযোগিতায় বিদেশফেরত যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। থার্মাল স্ক্যানার বিকল থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘থার্মাল স্ক্যানার বিকল থাকলেও বিকল্প উপায়ে যাত্রীদের জ্বর আছে কিনা, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এদিকে, করোনাভাইরাস ঠেকাতে সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দরের অভিভাসন কেন্দ্রে অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প চালু করা হয়েছে। গেল বুধবার সকাল থেকে এ ক্যাম্পে ৫ সদস্যের দল কাজ করছে। এ স্থলবন্দরে দিয়ে আসা ভারতসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রীদের কারো শরীরে করোনাভাইরাস আছে কিনা, তা মেডিকেল ক্যাম্পে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। এই মেডিকেল ক্যাম্পের নেতৃত্বে আছেন গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন রাশেদুল ইসলাম।

নিউজটি শেয়ার করুন:
© দৈনিক আজকের সুনামগঞ্জ
বাস্তবায়নে : Avo Creatives