সুনামগঞ্জ, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০

চলতি নদীর বামতীর বেড়ী বাঁধ উপ প্রকল্প পরিদর্শন করেন তদন্ত কমিটি

চলতি নদীর বামতীর বেড়ী বাঁধ উপ প্রকল্প পরিদর্শন করেন তদন্ত কমিটি

মোঃ আব্দুল শহীদঃ
২০১৯-২০ইং অর্থ বছরে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার স্থগিত হওয়া জাহাঙ্গীরনগর ও সুরমা ইউনিয়নের অনুন্নয়ন রাজস্ব খাতের কাবিটা আওতায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্ষতিগ্রস্থ অবকাঠামো মেরামত ও সংস্কারের জন্য চলতি নদীর বামতীর উপ-প্রকল্পের সম্প্রতি নির্মাণাধীন স্থগিত ১৪ টি বাধেঁর কাজ পরিদর্শন করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারি প্রকৌশলী আশরাফুল সিদ্দিকী, এলজিইডির উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার মো আনোয়ার হোসেন, সুপারভাইজার তৌহিদুজ্জামান, সার্ভেয়ার হেলাল উদ্দীন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জাহাঙ্গীরনগর ইউপি-চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মো মোকসেদ আলী, সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের জননন্দিত চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ সভাপতি আব্দুছ ছাত্তার ডিলার, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী বজলুর রহমান বামতীর উপ-প্রকল্পের পিআইসির সভাপতি ও জাতীয় পার্টির নেতা এরশাদ মিয়া, প্রকল্প নং-২৩, বামতীর উপ-প্রকল্পের পিআইসির সভাপতি ও যুবলীগ নেতা পিয়ার আহমদ, প্রকল্প নং-২২, শফিকুল ইসলাম, আজাদ মিয়া, দুলাল মিয়া, আজগর, আনোয়ার হোসেন, হাবিজুর রহমান, মনজুর মিয়া, সবদর আলী, জনব মিয়া, মনফর আলী, মকবুল ইসলাম, আমির উদ্দীন, আজির মিয়া প্রমুখ। আগাম বন্যার কবল থেকে বোরো ফসল রক্ষার জন্য সরকার সঠিক সময়ে উপ-প্রকল্প বেড়ী বাধেঁর কাজ করাচ্ছেন। মাত্র দুইশত ঘনফুট জায়গার জন্য বাধঁ নিমার্ণে বাধা সৃষ্টি করে বাধটি স্থগিত করেছে অক্ষয়নগর গ্রামের কিছু সংখ্যক লোক। মহান স্বাধীনতার পর থেকে উত্তর পাড়ের হাজার হাজার মানুষের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম ছিল নদী পথে। সরকার হাওর রক্ষা বাধঁ এবং উত্তর পাড়ের অবহেলিত মানুষের কথা চিন্তা করে জাহাঙ্গীরনগর ও সুরমা ইউনিয়নের চলতি নদীর বামতীর ১৪ টি উপ-প্রকল্প করে। পানি উন্নয়ন র্বোড অফিস সূত্রে জানা যায়, ভারত মেঘালয় থেকে প্রবল পাহাড়ি ঢল এসে প্রথমেই চলতি নদীর পাড় ডুবে বিভিন্ন হাওরে পানি প্রবেশ করে হাওর তলিয়ে যাওয়ার কারণেই সরকার এ বছর সদর উপজেলার মধ্যে সবচাইতে বেশি বরাদ্দ দিয়েছেন সুরমা ও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে। হুরারকান্দাঁ থেকে চলতি নদীর বামতীর প্রকল্পটি অক্ষয়নগর পর্যন্ত বেড়ী বাঁধ হবে। বোরো মৌসুম হওয়ার কারণে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ছয়শত টাকা মজুরী দিয়ে বাধের কাজ করছেন পিআইসিরা। প্রথম বিল না পেয়ে দ্বার খরর্জ করে কাজ করিয়েছেন পিআইসিরা। শ্রমিকদের পাওনা টাকার জন্য দিনরাত ঘুর ঘুর করছেন পিআইসিদের বাড়িতে। গত বছর জেলার মধ্যে শতভাগ কাজ হয়েছিল জাহাঙ্গীরনগর ও সুরমা ইউনিয়নে। এবারও জাহাঙ্গীনগর ও সুরমা ইউনিয়নের বেড়ী বাধেঁর কাজ দেখে মনে হচ্ছে বিশ^রোড হচ্ছে। এ বিষয়ে একজন পিআইসি বলেন, অক্ষয়নগর এলাকার কিছু সংখ্যক লোক নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য প্রথমে বাধঁ নিমাণে বাধাঁ দেয়। পরবতির্তে অপ্রয়োজনীয় বাধঁ উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে বাধঁটি স্থগিত করেছে। এরা উন্নয়নের এবং জনগনের শক্র। এ ব্যাপারে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী বজলুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই আমরা উত্তর পাড়ের হাজার হাজার সাধারণ মানুষের অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় লাগত সুনামগঞ্জ শহর থেকে বাড়ি আসতে। আমাদের ছেলে মেয়েরা অনেক কষ্ট করে শহরে গিয়ে লেখাপড়া করেছে। এমনও হয়েছে নৌকা যোগে পরীক্ষা দিতে গিয়ে ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষার হলে ডুকে পরীক্ষা দিতে পারেনি। মাননীয় সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিছবাহ মহোদয়ের মনোনীত হাওর রক্ষা বাধঁ নির্মাণ কাজ দ্রুত চালু করে সম্পন্ন করার জন্য সরকারের আশুদৃষ্টি কামনা করছি। এ ব্যাপারে ইউপি-চেয়ারম্যান আব্দুছ ছাত্তার ডিলার বলেন, খাইয়েরগাও হতে হুরারকান্দা হয়ে অক্ষয়নগর হাওর রক্ষা স্থগিত বাধঁটি সম্পন্ন হলে উত্তর পাড়ের হাজার হাজার সাধারণ মানুষের অল্প সময়ে যাতায়াতের ভাল যোগাযোগ মাধ্যম হবে। সরকার সঠিক সময়ে বাধেঁর কাজ করাতে দুটি ইউনিয়নের কেটে খাওয়া নিন্ম আয়ের মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত কমিটির সাথে আলাপকালে জানা যায়, খাইয়েরগাঁও, হুরারকান্দা হয়ে অক্ষয়নগর গ্রাম পর্যন্ত মোট ১৪ টি হাওর রক্ষা বাধঁ। সম্প্রতি অক্ষয়নগর এলাকাবাসী অপ্রয়োজনীয় বাধঁ উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। খাইয়েরগাওঁ পাকা রাস্তা হতে চলতি নদীর বামতীর প্রকল্পের ২২ ও ২৩ নং-পিআইসির কাজ প্রায় ৪০% হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইয়াসমিন নাহার রুমা জানান, স্থগিত বাধের বিল পরিশোধের জন্য আমরা চেষ্টা করছি।

নিউজটি শেয়ার করুন:
© দৈনিক আজকের সুনামগঞ্জ
বাস্তবায়নে : Avo Creatives