Logo
সোমবার ১৯শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং ৭ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

সিলেটে ‘উন্নয়নের দুর্ভোগ’ সইতে হবে এক মাস!

সিলেট অফিসঃ
সিলেট নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক জিন্দাবাজার থেকে পূর্ব জিন্দাবাজার হয়ে বারুতখানা সড়কটি। দু’দিন ধরে এ পথে যানবাহন নিয়ে যেতে-আসতে পারছেন না লোকজন। ‘উন্নয়নের দুর্ভোগে’ পড়েছেন শিক্ষার্থী, নগরবাসী ও পথযাত্রীরা। এ ভোগান্তি সহসাই লাঘব হচ্ছে না, কমপক্ষে লাগবে এক মাস- এমনটাই জানিয়েছেন সিসিক কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, গত শনিবার রাতে নগরীর বারুতখানা পয়েন্টের অদূরের (পূর্ব জিন্দাবাজারস্থ) বক্স কালভার্টটি নতুন করে নির্মাণের জন্য পুরো রাস্তাই খুঁড়ে ফেলা হয়েছে। এছাড়া গতকাল রবিবার সকালে জেলরোড থেকে নাইওরপুল সড়কের আরেকটি কালভার্টও ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফলে জিন্দাবাজার থেকে বারুতখানা ও জেলরোড হয়ে নাইওরপুল পযন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে গতকাল রবিবার থেকে। ভাঙা কালভার্টের স্থানে লোকজন পারাপারের জন্য বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে এগুলো দিয়ে পারাপারের সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ছোট সাঁকোর উপর দিয়েই অনেকে মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল নিয়ে পারাপারের চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং কেউ কেউ পার হচ্ছেনও। এতে রয়েছে মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কা। এদিকে, পূর্বঘোষণা বা বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই কালভার্ট ভেঙ্গে ফেলায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। এমনই একজন নগরীর শেখঘাট এলাকার বাসিন্দা আব্দুল করিম। তিনি সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মোটরসাইকেলযোগে পূর্বজিন্দাবাজারে একটি ব্যাংক শাখায় যেতে চাচ্ছিলেন। এসে দেখেন রাস্তা বন্ধ। এসময় তিনি এ প্রতিবেদকের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এ কেমন বিড়ম্বনা! উন্নয়ন করবেন ভালো কথা, কিন্তু জনসাধারণের সীমাহীন ভোগান্তি ঘটিয়ে কেন?’ সিসিক র্কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে নগরবাসীকে না জানিয়ে এমন কাজ যেন না করা হয়।’ একইভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেন নগরীর শিবগঞ্জ থেকে জিন্দাবাজারের উদ্দেশ্যে আসা সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী লিমা বেগম। তিনি কেনাকাটা করতে রিকশাযোগে যাচ্ছিলেন জিন্দাবাজারে। বারুতখানা পয়েন্টে এসে দেখেন এ রাস্তা বন্ধ। এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘কথা নেই, বার্তা নেই, ধুম করে রাস্তা বন্ধ! এখনতো জিন্দাবাজার যেতে হবে অনেক ঘুরপথে। রিকশাওয়ালাকে দিতে হবে বাড়তি টাকা।’ যাতায়াতকারীদের পাশাপাশি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এ রাস্তার পার্শ্ববর্তী ব্যবসায়ীরাও। নাইম নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘গত দুদিন ধরে অবস্থা খুব খারাপ। একদম বিকিসিকি নেই। অথচ প্রতিদিন ভাড়াসহ দোকানের ব্যয় আছে হাজার টাকার উপরে।’ এ ব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে পূর্ব কোনো বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়নি। তবে এসএমপি কমিশনার বরাবরে চিঠি দেয়া হয়েছিল।’ পুরো কালভার্টই ভেঙে ফেলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কালভার্টগুলোর অবস্থা এমন যে, অর্ধেক ভেঙে কাজ শুরু করলে বাকি অর্ধেক টিকবে না। তাই ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শে পুরোটাই ভেঙে কাজ ধরা হয়েছে।’ কতদিন সময় লাগবে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান প্রকৌশলী বলেন, ‘ঠিকমতো বলা যাচ্ছে না। তবে মাসখানেক তো লাগবেই।’

নিউজটি শেয়ার করুন