সুনামগঞ্জ, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

তাহিরপুর-আনোয়ারপুর সড়কে কাজের সমন্বয় না থাকায় জনজীবনে দুর্ভোগ

তাহিরপুর-আনোয়ারপুর সড়কে কাজের সমন্বয় না থাকায় জনজীবনে দুর্ভোগ

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়াঃ
তাহিরপুর উপজেলা সদর থেকে আনোয়ারপুর সড়কের ৫কিলোমিটার সড়কে ধুলার রাজ্যত্বে পরিণত হয়েছে। এসড়ক দিয়ে সিএনজি,মটর সাইকে,প্রাইভেট কার,ট্রাক,লেগুনা,টমটম চলাচল করার কারনে ঘর থেকে বেরোলেই ধুলার মুখোমুখি হতেই হয় সবাইকে। উপজেলা থেকে জেলা সদরের গুরুত্বপূর্ন সড়কটি ধুলার সাথে যেন সবার বসবাস। এই সড়কে উন্নয়ন কার্যক্রমের নামে রাস্তা খুরে ফেলে রাখার কারণে এখন ধুলাবালির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বিষিয়ে উঠছে পরিবেশ। আর সচেতন মহল বলছেন,উন্নয়ন সংস্থার কাজের মধ্যে সমন্বয় না থাকা মাত্রাতিরিক্ত ধুলাবালির অন্যতম কারণ। জানাযায়,অসহনীয় ধুলার কারণে মধ্য তাহিরপুর, উজান তাহিরপুর, বীরনগড়, ধুতমা, চিকসাসহ অধিকাংশ সড়কে চলাচল করা মানুষকে পড়তে হচ্ছে চরম বিপাকে। এছাড়াও এসড়ক দিয়ে ঐসব গ্রামের লোকজন ও প্রতিদিন স্কুল,কলেজে হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা চলাচল করছে। বর্তমানে এই সড়কের অধিকাংশ রাস্তায় প্রায় দুমাস পূর্বে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ করা হয়। কিন্তু সড়কের কাজ শুরু না করায় সৃষ্টি হচ্ছে ধুলা ফলে বাড়ছে বায়ুদূষণ। সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজে দীর্ঘসূত্রিতাসহ নানা কারণে শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় বাতাসে ভাসছে ধুলা-বালি ব্যাপক আকার ধারন করায় এলার্জি ও শ্বাসকষ্টসহ রোগ-বালাইয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন চলাচলকারী যাত্রী,আশ পাশের বাড়ি ঘরের বাসিন্দারা। দূষণের মাত্রা আশঙ্কাজনক বলে মত বিশেষজ্ঞদের। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন,ক্ষতিকর উপাদান ও রোগজীবানু মিশ্রিত ধুলা মানবদেহে প্রবেশ এলার্জি ও শ্বাসকষ্টসহ রোগ-বালাইয়ে আক্রান্ত হওয়াসহ নানা রোগ সৃষ্টি করছে। মারাত্মক এই বায়ু দূষণে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি এড়াতে একে অপরের সহযোগিতা ও পরামর্শ নেয়ার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। বীরনগড় গ্রামের বাসিন্দা সাদেক আলী বলেন,এলাকায়ই চলছে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। ধুলার মাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে। মাস্ক ছাড়া রাস্তায় একটুও চলাফেরা করা যায় না। একটু হাঁটলে বা গাড়ীতে চলাচল করলে জামা-কাপড়ে ধুলার আস্তরণ পড়ে যায়। তাছাড়া এখন বাইকও চালাতে পারি না। একদিন চালালেই অসুস্থ হয়ে পড়ি ধুলার কারণে। উজান তাহিরপুর গ্রামের বাসিন্দা হাফিজ উদ্দিন পলাশ বলেন,আমার বাসার সামনে দিয়ে বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করায় ধুলাবালির ভুক্তভোগী আমি। রাস্তা দিয়ে হাটা যায় না ধুলার কারনে। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে ফেলে রাখায় ও বিভিন্ন যানবাহন চলার কারণে ধুলাবালির পরিমাণ বেড়েছে। শিক্ষার্থী বৃষ্টি জানান,এই সড়ক ভাঙ্গাচুরা ছিল ভালই ছিল এত ধুলা ছিল না। সড়কটি খুড়ে রাখায় এখন ত আরো বেশী সমস্যা হয়েছে। স্কুলে যাওয়ার জন্য সড়কে উঠলেই ধুলার স্কুল ড্রেস নষ্ট হয়ে যায়। চোখে,মুখে ধুলা পড়ে যায়। চোখে ধুলা পড়লে খুব কষ্ট হয়। এই সড়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত কন্ট্রাক্টার জামিল ইকবালের প্রতিনিধি ওয়াহিদ জানান,আমরা দূত কাজ করছি। রাস্তায় বল্কের কাজ করায় একটু দেরী হচ্ছে। কাজের বরাদ্ধ কত আমার জানা নাই। আর এই সড়কে ধুলা না উঠার জন্য আমরা পানি দিচ্ছি। কাজ ত শুরু করেছি দু মাসের মধ্যেই শেষ করব। তার জন্য সবাইকে সহযোগীতা করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন:
© দৈনিক আজকের সুনামগঞ্জ
বাস্তবায়নে : Avo Creatives