সুনামগঞ্জ, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০

মধ্যনগর থানা আওয়ামীগের কমিটি গঠন নিয়ে স্থানীয় নেতাদের মধ্যে চলছে কোন্দল

মধ্যনগর থানা আওয়ামীগের কমিটি গঠন নিয়ে স্থানীয় নেতাদের মধ্যে চলছে কোন্দল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ
গত এক মাস যাবৎ মধ্যনগর থানা আওয়ামীলীগ আহ্বায়ক কমিটি গঠন নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে বক্তব্য প্রদান করায় ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানায় আলোচনা সমালোচনা চলছে। এক পক্ষ অপর পক্ষকে ঘায়েল করতে ব্যস্থ সময় পার করছে। কেউ কেউ একেকজনকে মাদকসেবী গডফাদার বানাচ্ছে। তবে তাদের এ দলীয় কোন্দলের কারণে শান্তির জনপথ মধ্যনগর থানায় বিভিন্ন অজানা কাহিনী ফুটে উঠছে। কে কবে আওয়ামী রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়েছে তাও ফুটে উঠেছে তাদের বক্তব্য থেকে। কারা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন তাও প্রকাশ পাচ্ছে। সচেতন এলাকাবাসী মনে করেন মধ্যনগরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শুদ্দি অভিযান পরিচালিত হোক। মধ্যনগর থানার এক আওয়ামীলীগ নেতার অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনের নাগের ডগায় বসে কোন ধরণের অভিজ্ঞতা ছাড়াই দাতেঁর চিকিৎসা করে যাচ্ছেন কয়েক নামধারী অবৈধ ডাক্তার। মধ্যনগর থানার ৫০ গজের মধ্যে গ্রামের সহজসরল মানুষদেরকে প্রতারণার মাধ্যমে ভূয়া চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে এসকল ডাক্তাররা। দাঁতের মত একটি স্পর্শ কাতর বিষয়ে চিকিৎসা দিলেও তাদের বৈধ কোন কাগজপত্র নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জানান ঐ ডাক্তার নাকি স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতার ভায়রাভাই (শালীর জামাই) তার ভয়ে ঐ ডাক্তারের বিরুদ্ধে কোন কথা বলার কেউ সাহস পায় না। এই প্রতিবেদক মধ্যনগর বাজারে গিয়ে দেখতে পান সে গ্রামের সহজ সরল মানুষের দাঁত ফেলছে। ঐসময় তার কাছে ডাক্তারী কাগজপত্র দেখাতে চাইলে সে তা দেখাতে পারেনি। মধ্যনগর উপজেলার বাস্তবায়ন কমিটির একজন জানান মধ্যনগর উপজেলা বাস্তবায়ন হলে এখানে অনেকাংশে বহু দূনীর্তি কমে যাবে। রাস্তাঘাট না থাকায় সহজে যাতায়াত করা যায় না বলে এখানে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকান্ড চলে। প্রশাসন বলতে শুধু থানা পুলিশ। তাই তাদের সাথে সহজেই সখ্যতা গড়ে উঠে অপরাধী চক্রের। তাই পুলিশ বিভিন্ন অপকর্ম দেখেও না দেখার বান করে। আরো একটি অমানবিক কারবার হচ্ছে মধ্যনগর হাট বাজারে হাট বারে ডিম মহাল নামে খ্যাত বাজার কেউ ডিম ক্রয় এবং বিক্রয় করতে আসলে দুপক্ষকেই হাটে ইজারা দিতে হয়। ডিম মহালের ইজারাদার নিজেকে আওয়ামীলীগের একজন নেতার বন্ধু পরিচয় দিয়ে বেড়ান। তাই কেউ ভয়ে প্রতিবাদ করে না। অগ্যতা কেউ করে ফেললে ইজারাদার বাহিনীর কাছে তাকে লাঞ্চিত হতে হয়। এই হচ্ছে শান্তির জনপথ মধ্যনগরের হালচাল। বংশীকুন্ডার মুক্তিযোদ্ধা কিরণ মিয়া (০১৭২২৭৩৬২৩২) জানান প্রস্তাবিত আহ্বায়ক কমিটির আঃ আজাদ ২০০১ সালে মধ্যনগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন। ২০১৪ সালে মাননীয় সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের মাধ্যমে আওয়ামীলীগে যোগদান করেন। তার পিতা মোঃ সুরুজ আলী মধ্যনগর থানার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতার সহ-সভাপতি। তিনি আরও জানান প্রবীর বিজয় তালুকদার একজন স্বেচ্ছাচারী চেয়ারম্যান। তিনি ্আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘর নিত্যানন্দ সরকারের নামে বরাদ্ধ হয়ে আসলেও সাবেক ইউপি সদস্য মালা রাণীকে দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে অভিযোগ করা হলে ঐ মহিলার বাড়ীতে ঘরের সব সরঞ্জামাধি নিত্যানন্দকে প্রদান করা হয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে। তবে যাকে ঘর প্রদান করা হয়েছে তিনি এলাকার একজন ধনী লোক হিসেবে পরিচিত। জমসেদপুরের মুক্তিযোদ্ধা সুধির সরকার (০১৭৭২১৩০৬৮২) জানান শহীদ মিয়ার বাবা একজন নেশাগ্রস্থ লোক ও মধ্যনগর থানা বিএনপির সহ-সভাপতি। মধ্যনগর ইউপি সদর চেয়ারম্যান প্রবীর বিজয় তালুকদার একজন মাদকসেবী ও ইয়াবা ব্যবসায়ী। তিনি পরিষদে কাউকে কথা বলতে দেন না। যারা তার বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ করলে তিনি ইউপি সদস্যকে কোন প্রকল্প প্রদান করেন না। তার ভয়ে তটস্থ তা পরিষদের সদস্যরা। তিনি একক সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিষদ পরিচালনা করেন। চামারদানী ইউনিয়নের গোপাল সরকার (০১৭১০৩২৭৮৬৩) জানান আঃ শহীদ আওয়ামীলীগের যোগদানের আগে বিএনপির রাজনীতি করতেন। বর্তমান সাংসদের হাত ধরেই আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে আসেন। উনার ভাই, বাবা, বাতিজারা মাদকসেবী ও নিজেই অন্যায়কারী। বর্তমান সাংসদ যখন নির্বাচিত হন তখনই তাদের ভাগ্য খুলে যায়। রাতারাতি আওয়ামীলীগার বনে যান। তাদের কোন অর্থ সম্পদ ছিলো না। বর্তমানে তারা কোটিপতি ও অবৈধ বিভিন্ন ব্যবসা করে তারা লক্ষ লক্ষা টাকার মালিক হয়েছেন। বর্তমান সাংসদের আর্শিবাদ পুষ্ঠ হওয়ায় তারা মধ্যনগরে একটি ত্রাশের রাজত্ব কায়েম করেছে। তার ভাই রেজাউল ইয়াবা ব্যবসায়ী। প্রবীর বিজয় চেয়ার নির্বাচিত হবার আগে তার বাবা একজন ডিড লাইটার ছিলেন। সে মানুষের বন্ধকী জমি ক্রয় বিক্রয় লিখে দিতো। সে চেয়ারম্যান হয়ে সিলেটে একটি আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছে। গত বোরো মৌসুমে বিভিন্ন বাদে তার মনমত রুপ দিয়ে প্রকল্প করে ভূয়া বিল ভাইচার করে সরকারি টাকা আতœসাৎ করে সে কোটিপতি হয়েছে। মধ্যনগর বাজার খাস কালেকশন ইজারা থেকে টাকা এনে আত্মসাৎ করেছে। আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর প্রকৃত গরিব লোকদের না দিয়ে সে ধনী লোকদের দিয়েছে। যারা তার লোক হিসাবে পরিচিত তাদেরকেই সে ঘর দিয়েছে। গিয়াস উদ্দিন নূরী ও পরিতোষ সরকার এলাকায় সম্মানী লোক। তারা আক্রোশমূলক তাদের বিরুদ্ধে পত্র-পত্রিকায় এবং দলীয় হাই কমান্ডের কাছে অভিযোগ করেছে। পরিতোষ সরকার জানান প্রবীর বিজয় তালুকদার ২০১৬ সালে আওয়ামীলীগে যোগদান করেন। এর আগে তার মুখে কোন জয় বাংলার স্লোগান শুনা যায়নি। চেয়ারম্যান নির্বাচনের আগে সিলেট কোরাশি কোম্পানী লিমিটেড এ চাকুরী করতেন। ঐ সময় কোরাশি কোম্পানী লিমিটেড জামাতের একজন শীর্ষ নেতা হতে পরিচালিত হত। কিভাবে অন্য দুইজন ভাল মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। প্রবীর বিজয় তালুকদার চেয়ারম্যান হওয়ার পূর্বে তিনি সৎ এবং নির্বীক থাকার আশ্বাস দিলে সবাই তার কথায় বিশ্বাস করে তাকে ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান বানানোর পর তার চেহারা পাল্টে যায়। এখন তিনি একজন আতংকের নাম। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর সে এখন কয়েকটি বাসা ও জায়গার মালিক হয়েছেন। নেত্রকোনার কমলাকান্দা, মধ্যনগর, সুনামগঞ্জ, সিলেটের বেশ কয়েকটি জায়গার মালিক। তার বাবা একজন সামান্য ডিড রাইটার ছিলেন। তাদের ঘরে অনেক সময় খাবার জুটতো না। এখন সে আলিশান গাড়ী-বাড়ী ও বিশাল সম্পদের মালিক। যেন আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়েছে। নওয়াগাঁওয়ের সুদিন সরকার (০১৭০৩৪৫৭১৪০) জানান আল মানুষ ভেবে তাকে চেয়ারম্যান বানিয়েছিলাম প্রবীর বিজয় কে। তিনি বর্তমানে বিভিন্ন দূর্নীতি করে সম্পদের মালিক হয়েছেন। বর্তমান সাংসদের পৃষ্ঠপোষকতা পেয় তিনি বিভিন্ন অপকর্ম ও দুষ্কৃতি করেছেন। তিনি এর আগে আওয়ামীলীগের কেউ ছিলেন না। ২০১৬ সালে আওয়ামীলীগে যোগদান করে বর্তমানে বড় নেতা হতে চান। পরিতোষ সরকার ও গিয়াস ুউদ্দিন নূরী পরীক্ষিত আওয়ামীলীগার। তাদেরকে পদ পদবী দেওয়ার জন্য জেলা কমিটির কাছে অনুরোধ সহ আহ্বান জানাচ্ছি। গিয়াস উদ্দিন নূরী জানান ১৯৫৯ সন থেকে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে আওয়ামীলীগে জড়িত আছি এবং ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলাম। আমি যুবলীগ করেছি। কমিটি ভাঙ্গার আগ পর্যন্ত থানা আওয়ামীলীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করে আসছিলাম। বর্তমানে থানা আহ্বায়ক কমিটি জেলা কমিটি কর্তৃক বিলুপ্ত ঘোষণার পর আমি এবং পরিতোষ জেলা কমিটি বরাবরে একটি আহ্বায়ক কমিটি দাখিল করি। এর প্রেক্ষিতে শহীদ ও প্রবীর বিজয় আরো একটি কমিটি জমা দেয়। এরা প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে জেলা কমিটি বরাবরে আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করে তাদের নিজস্ব কিছু লোক দিয়ে মানহানী করার চেষ্ঠা করে। আমি তাদের এধরণের কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আর তাদের পক্ষেই সম্ভ্যব নোংরা রাজনীতি ও নোংরা বক্তব্য পেশ করা। কারণ তারা যদি আসল আওয়ামীলীগ হত তাহলে এধরণের অভিযোগ করতে পারতো না। শহীদ আজাদ ২০১১ হতে আওয়ামীলীগে যোগদান করে। আর প্রবীর বিজয় ২০১৬ তে আওয়ামীলীগে যোগদান করে। বর্তমান সাংসদের পৃষ্ঠপোষকতায় ও ছত্রছায়ায় থেকে শহীদ আজাদ এবং প্রবীর বিজয় কোটি টাকার মালিক হয়েছে। শহীদ আজাদের ভাইয়েরা খাস জায়গা দখল করে বড় বড় বিল্ডিং নির্মাণ করেছে। যাহা সরজমিনে তদন্ত করলে পাওয়া যাবে। ২০০৮ সালের আগে তার ভাইয়েরা ট্রলার (নৌকা) চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। আব্দুস শহীদ আজাদ জানান আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বাবার কৃতকর্ম পুত্র গ্রহণ করে না। এটাই নিয়ম। আমি মাদক সেবন করি কিনা সেটা বিষয়। আমার প্রতিপক্ষকের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী তার মাদকসহ বিভিন্ন কার্যকলাপ নিয়ে পত্রিকায় এর আগে বক্তব্য দিয়েছে। আমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে কাল্পনিক অনেক কাহিনী সাজিয়ে তারা অভিযোগ করেত পারে। তবে এর সত্যতা মিলবে না। আমি এলাকায় কিভাবে চলি তা এলাকাবাসী যে কাউকে জিজ্ঞেস করলে বলে দিবে আমি কেমন। আমি নিজে মাদক সেবন করি না। এবং মাদককে ঘৃণা করি। যারা চিহ্নিত মাদকসেবী হিসাবে এলাকায় পরিচিত তারা আমার বিরুদ্ধে কিভাবে অভিযোগ করে তা আমার বোদগম্য হচ্ছে না। দল এদেরকে পদ পদবী দিলে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে। তাই এদেরকে দলের বৃহৎ স্বার্থে কোন পদ পদবী প্রদান না করার জন্য আমি দলীয় নেতৃবৃন্দের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি। প্রবীর বিজয় তালুকদার জানান আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা কাল্পনিক। আমরা দলীয় হাই কমান্ডের কাছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়ন সাপেক্ষে তাদের বক্তব্য হচ্ছে বিরুদীতার জন্য বিরুদাতা করা নামান্তর। এসব ঘঠনার সাথে আমি আদৌ জড়িত না। আদৌ আমার নিজস্ব সিলেটে কোন বাড়ি নেই। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা কল্পনিক ও ভিত্তিহীন।

নিউজটি শেয়ার করুন
© দৈনিক আজকের সুনামগঞ্জ
বাস্তবায়নে : Avo Creatives