Logo
মঙ্গলবার ১২ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং ২৭শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ১৫ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

১১মাসের ব্যবধানে জেলায় ৪২টি খুন ও ৮১টি ধর্ষণের ঘটনা শান্তি ও সমৃদ্ধির শহর সুনামগঞ্জে হঠাৎ খুন ও ধর্ষনের ঘটনায় বেড়েছে

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া,তাহিরপুর অফিস:
সুনামগঞ্জ জেলাকে দেশের অন্যতম শান্তিপ্রিয় জেলা হিসেবে মানা হলেও দিন দিন ধর্ষন,হত্যা,খুনের মতো গুরুতর অপরাধ বেড়েই চলছে। পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতায় সার্বিক আইনশৃংখলা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রনে থাকলেও হঠাৎ খুনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় আত্নংকিত জেলাবাসী। চলতি জানুয়ারি থেকে নভেম্বর ৪তারিখ পর্যন্ত ১১মাসের ব্যবধানে জেলায় ৪২টি খুন ও ৮১টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো তৎপরসহ প্রতিটি হত্যার রহস্য উদঘাটন করে প্রকৃত আসামীদের আইনের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জেলার সচেতন নাগরিকগন। জেলার সচেতন নাগরিকগন বলেন,রাজনৈতিক সংঘাত,জমিজমা নিয়ে বিরোধ,এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের ঘটনা বেড়ে চলছে। সেইসাথে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে স্বজনকে বলি দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে মানুষের মাঝে। সব মিলিয়ে গত ১১মাসে জেলায় বেশকিছু আলোচিত খুনের ঘটনা ঘটে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো তৎপরতা,শিক্ষার হার বাড়ানো,বেকারত্ব কমানো,কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের জনপ্রতিনিধিদের আরো বেশি সোচ্চার হওয়ার প্রয়োজন। জানাযায়,গত বছর জেলায় সর্বমোট ৩৪টি খুন ও ৫৩টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল। চলতি বছরের ১০মাসেই এই সংখ্যা পার হয়ে গেছে। ১১মাসে গত এক বছরের তুলায় ধর্ষণের ঘটনা ২৮টি বেশি সংঘটিত হয়েছে। এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১১মাসের ব্যবধানে জেলায় ৪২টি খুন ও ৮১টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে নৃশংস কায়দায় তুহিনসহ তিন শিশু খুনের ঘটনা দেশব্যাপী আলোচিত হয়েছে। রবিবার(০৩,১১,১৯)জেলার দোয়ারা বাজারে এক মুক্তিযোদ্ধা খুণসহ গত ২২অক্টোবর জেলার তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মানিগাও গ্রামের বিল্লাল মিয়ার ৬বছরের শিশুসহ অনেকগুলো ধর্ষণের লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও রাজনৈতিক দ্বন্ধে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ভ্যানচালক ও জেলে নিহত হওয়ার আলোচিত ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। পুলিশ জানায়,১৫মে ছাতকে নৌপথে চাঁদাবাজি নিয়ে স্থানীয় আ,লীগের দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় সাহাবুদ্দিন(৪৫)নামের একজন ভ্যানচালক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ১৮অক্টোবর জগন্নাথপুর বাস স্টেশনে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষের সময়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে প্রাণ হারায় এক মাদ্রাসা ছাত্র। মাদ্রাসা পড়ুয়া ওই শিশুর বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার নগরকান্দি গ্রামে। এদিকে,১৩অক্টোবর রাতে দিরাই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের কেজাউড়া গ্রামে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে স্বজনদের হাতে নির্মমভাবে প্রাণ হারায় সাড়ে ৫বছর বয়সী শিশু তুহিন মিয়া। ঘাতকরা শিশু তুহিনের লাশ রাস্তার পাশের একটি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। এছাড়া তুহিনের পেটে দুটি ছুরি ঢুকিয়ে দেয় এবং দুটি কান,এমনকি যৌনাঙ্গটিও কেটে ফেলে। ১১মার্চ রাতে ২৩দিন বয়সী এক শিশুকন্যাকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠে স্বজনদের বিরুদ্ধে। ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের চাকলপাড়া গ্রামে এই নৃশংস ঘটনাটি সংঘটিত হয়। গত ২২অক্টোবর জেলার তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মানিগাও গ্রামের বিল্লাল মিয়ার ৬বছরের শিশুকে মঙ্গলবার রাতে ফুঁসলিয়ে নিয়ে গিয়ে বাড়ীর পার্শ্ববর্তী কবরস্থানের পাশের পাটক্ষেতে ধর্ষন করে ফেলে রেখে যায় উদয়ন হোসেন। দিকে,গত ১১মাসে ধর্ষণের ঘটনা বিগত বছরের তুলনায় উল্লেখ্যযোগ্য হারে বেড়েছে। ১১মাসে জেলায় ৮১টি ধর্ষণের ঘটনার অভিযোগ রেকর্ড করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ৫বছর বয়সী শিশুকন্যাও রয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট চাঁন মিয়া বলেন,খুন,ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধ কমিয়ে আনতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা,নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে শাস্তি প্রদানের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোও প্রয়োজন। অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করতে প্রেরণা যোগাতে হবে। ছোটখাটো বিবাদগুলো মিমাংসা করতে স্থানীয় সরকার বিভাগের জনপ্রতিনিধিদের আরো বেশি তৎপর হওয়া প্রয়োজন। পুলিশ বাহিনী আইনশৃংখলা রক্ষায় সর্বোচ্ছ চেষ্টা করছে বলে জানান পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন,খুন ও ধর্ষনের বিষয় নিয়ে ভালভাবে বুঝে পরিসংখ্যান দেখে তারপর মন্তব্য করা যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন