Logo
মঙ্গলবার ১২ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং ২৭শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ১৫ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

সুনামগঞ্জের আদার বাজারে রের্কডিয় সম্পত্তি প্রভাবশালী কর্তৃক জবর দখলের পায়তারা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি

মো আব্দুল শহীদ :
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গাঁরচর ইউনিয়নের আদার বাজারে নিরীহ পরিবারের রের্কডিয় সম্পত্তি প্রভাবশালী ভূমি খেকো সিন্ডিকেট চক্র কর্তৃক জবর দখলের পায়তারা। সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, হরিনাপার্টি মৌজার, ৯৯ নং-জেএলস্থিত, ১০৬৫ খতিয়ানের, ১০৭৯,১০৭৮,১০৮০ দাগের রের্কডিয় ভিট রকম ভূমি থেকে চিরতরে উচ্ছেদ করার পায়তারা করছে মহি উদ্দীন ও কামাল হোসেন গংরা। জায়গা সংক্রান্ত পূর্ব বিরুদের জেরে বিভিন্ন থানার মিথ্যা এজাহার এবং হাই কোর্টের গ্রেফতারী ওয়ারেন্ট দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। আব্দুল কাদির, সফর উদ্দীন, রমজান আলী, লালমতি বেগম, রশিদ মিয়া, সামছুননেহার, আব্দুল মোতালিব, আব্দুল মন্নাফ, তাজ্জুদ মিয়া গংদের বাবা-চাচারা প্রায় ৮০ বছর পূর্বে ঐ সম্পত্তি চৌধুরী পরিবারের কাছ থেকে সাব কবালা দলিল মূল্যে ক্ররিদ করে বসত ঘর তৈরী করে বর্তমান কাল পর্যন্ত ভোগ দখলে আছেন। দু:খের বিষয় তাদের বাশঁ পালার টিনের চাপ্টা ঘর আস্তে আস্তে ভেঙ্গে যাচ্ছে কিন্তু মেরামত পর্যন্ত করতে পারছেন না প্রভাবশালীদের ভয়ে। বসত ঘর নিমার্ণ করতে গেলেই সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ভেঙ্গে ফেলে। প্রতিবাদ করলে নিরীহ পরিবারের উপর হামলা চালায়। মারপিট খেয়েও মিথ্যা মামলার আসামি হয়ে দিনের পর দিন পালিয়ে ভেড়ায় তারা। সাবেক চেয়ারম্যান ফরহাদ রাজা চৌধুরী উনার আমলে বিষয়টি নিষ্পত্তির সা¦র্থে গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বার বার শালিল বৈঠকের সিদ্ধান্ত আনা হলে তা অমান্য করে কামাল হোসেন ও মহি উদ্দীন। চেয়ারম্যান সহ শালিশী ব্যক্তিদেরকে আসামি করে মিথ্যা মামলা দায়ের করার পর বর্তমানেও চলমান রয়েছে। দীর্ঘ দিনের পূর্ব বিরুদ নিষ্পত্তি করার জন্য সদর উপজেলা পরিষদ ভাইচ চেয়ারম্যান এডভোকেট আবুল হোসেন ও ইউপি-চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সহ অত্র এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরা ঐ জায়গা নিয়ে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষরা প্রভাব খাটিয়ে সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন। যার নং-২১২ তারিখ ৩/৭/২০১৯ ইং। ভূমির মালিক আব্দুল কাদির জানান, বর্তমান চেয়ারম্যান সাহেবের আমলে আমরা নিরীহ লোকজন উনার কাছে বিচার প্রার্থী হলে তিনি কয়েকজন পৌর কাউন্সিলর এবং এলাকার শালিশী ব্যক্তিদের নিয়ে বিচার করে আমাদের পক্ষে রায় দেন। রায় দেওয়ার পর কামাল হোসেন ও মহি উদ্দীন গংরা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সহ আমাদেরকে আসামি করেন। আমার বাপ চাচার পরিশ্রমের টাকায় কেনা সম্পত্তি আমরা ভোগ দখলে থাকার পরেও প্রভাবশালীদের কারণে বসত ঘর তৈরী করতে পারছি না। আমার আতœীয় বৃদ্ধ মহিলা রাবেয়া বেগমের এক শতাংশ জায়গা প্রতিপক্ষরা ক্ররিদ করে উনাকে দিয়ে আমাদেরকে উচ্ছেদ করার পায়তারায় লিপ্ত রয়েছে।
এ ব্যাপারে ভূমির রের্কডিয় মালিক ফজর আলী ও আলী আহমদ গংরা জানান, ১০৭৮ নং- দাগের ভূমিতে আমাদের ৭ শতাংশ জায়গা রয়েছে। ভূমি খেকো কামাল হোসেন ও মহি উদ্দীন গংদের অবৈধ নিষেধ বাধার কারণে আমি কোন ধরনের স্থাপনা তৈরী করতে পারছি না। রাবেয়া বেগম নামের একজন বৃদ্ধ মহিলাকে ম্যানেজ করে প্রতিপক্ষরা আমাদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে। আমার জায়গায় স্থাপনা তৈরী করতে গেলেই ঐ মহিলা এগিয়ে এসে বাধা সৃষ্টি করে। আমাদের জায়গা নিয়ে দীর্ঘ দিনের পূর্ব বিরুদ নিষ্পত্তি করার জন্য সদর উপজেলা পরিষদ ভাইচ চেয়ারম্যান এডভোকেট আবুল হোসেন ও ইউপি-চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সহ অত্র এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরা ঐ জায়গা তাদের নিকট বিচারাধীন থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষরা প্রভাব খাটিয়ে সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরী করে শালিশী লোকদের অপমান করেছেন। কামাল হোসেন যদি জায়গা পায় তাহলে তো আমরাও পাব। পঞ্চায়েতবর্গ এবং আইনের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল । আমাদের কাগজ পত্র সঠিক হলে আমাদের জায়গা কেউ দখল করতে পারবে না।
এ ব্যাপারে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচাজ শহীদুর রহমান জানান, ঐ জায়গার বিষয়ে একটি পক্ষ থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছে।
এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান আব্দুল হাই জানান, আব্দুল কাদির গংদের জায়গা নিয়ে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিসহ আমি অনেক বার বসেছি। সবার কাগজ পত্র পর্যালোচনা করে শালিশী বৈঠকে আব্দুল কাদির গংদের পক্ষে রায় দেওয়া হয়। আমরা সব সময় আতংকের মধ্যেই আছি। ঐ জায়গা নিয়ে যে কোন মুর্হুতে খুন খারাপির ঘটনা ঘটতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন